ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম ও তাঁর মহান জীবনাদর্শ স্মরণ করে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল থানার তদন্ত ওসি রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান আলী, জামায়াতে ইসলামীর পৌর আমীর আব্দুল মতিন, মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাহাবুব আলম, মুয়াজ্জিন আরিফুর রহমানসহ বিভিন্ন জামে মসজিদের ইমাম-খতিব ও মাদ্রাসার মোহতামিমরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, আদর্শ, চারিত্রিক মহত্ত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও বিশ্বমানবতার কল্যাণে তাঁর অনন্য অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ক্ষমা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও শান্তির অনুপম শিক্ষা রয়েছে। তিনি মানুষকে অন্যায়-অবিচার থেকে দূরে থেকে ন্যায় ও সত্যের পথে চলার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর আগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়ের সূচনা করে। তাঁর মাধ্যমে মানুষ অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও অন্যায়ের অন্ধকার থেকে সত্য, ন্যায় ও আলোর পথে চলার দিকনির্দেশনা পেয়েছে। তাই এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবন ও সুন্নাহ সম্পর্কে নতুন করে জানার, তাঁর আদর্শ অনুসরণ করার এবং মানবিক মূল্যবোধকে নিজেদের জীবনে ধারণ করার অনুপ্রেরণার দিন। তারা আরও বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শকে বাস্তব জীবনে ধারণ করাই হওয়া উচিত ঈদে মিলাদুন্নবীর মূল শিক্ষা। পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যের অধিকার রক্ষা এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা সম্ভব।
আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্বশান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।